বাংলাদেশ

ব্রাহ্মনবাড়িয়া সদর হাসপাতালের সামনে বেশি দামে ঔষধ বিক্রির অভিযোগ- ভুক্তভোগী রোগীদের মোবাইল জমা দিয়ে ঔষধ ক্রয়

ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধিঃ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের সামনে দুইটি ফার্মাসি-মেসার্স সততা মেডিকেল হল ও আধুনিক মেডিকেল হল ঔষধ বিক্রি নামে প্রতারনা করার অভিযোগ উঠেছে। 

আজ ১৯শে জানুয়ারী শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর বাবা ডেলি ম্যাপকে জানান । তিনি বলেন আমার ছেলে খুব অসুস্থ, টাকার অভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না তাই আমার ছেলেকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করায় কিন্তু এখানে এসেও কোন লাভ হল না কারন আজ রাত- ১২.২০ ঘঃ আমি মেসার্স সততা মেডিকেল হলে ঔষধ কিনতে গেলে অতিরিক্ত দাম রাখে তারা এবং ডাক্তার যে ঔষধ লিখছে সে ঔষধ না দিয়ে অন্য ফার্মাসিটিকেসের নিম্নমানের ঔষধ দেয় ।

বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের ভুক্তভোগী রোগী রমজান আলী সাংবাদিকদের বলেন- আমি গত মাসে প্রায় দীর্ঘদিন অসুস্থ হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম । আমার ছোটভাই ইউনুস আলী আধুনিক মেডিকেল হলে ঔষধ কিনতে গেলে একই প্রতারণায় প্রতারিত হয় । অবশেষে টাকা না থাকায় মোবাইল জমা দিয়ে ঔষধ ক্রয় করতে হয়ছিল ।

নাম বলতে অনিচ্ছুক এক দালাল বলেন- সদর হাসপাতালের সামনে ফার্মাসি যেমন- মেসার্স সততা মেডিকেল হল ও আধুনিক মেডিকেল হল ঔষধ বিক্রি নামে প্রতারনা করে যাচ্ছে তা সঠিক কারন আমরা কয়েকজন দালাল আছি যারা রোগীদেরকে ঐ ফার্মেসীতে নিয়ে গেলে ১০% কমিশন পাই । সে আরোও বলেন- আধুনিক মেডিকেল হল দিনের বেলা রোগীদের সাথে প্রতারনা করে যাচ্ছে আর গভীর রাতের অন্ধকারে সদর হাসপাতালের মোটামোটি সবগুলো ফার্মেসী বন্ধ থাকায় বেশী দামে ঔষধ বিক্রির কালো জ্বাল ফেতে রোগীদের সাথে প্রতারনা করছে মেসার্স সততা মেডিকেল হল । আমরা যাই হউক দালালী করি তারাই আমাদেরকে লালন করে । তারাই গরীব অসহায় মানুষদের কাছে থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা, আমরা আর কত পামু কন ? 

এক কেমিস্ট ডেলি ম্যাপকে বলেন- আমরা যে যত বড়ই কেমিস্ট হয়না কেন- ঔষধ এর (এমআরপি) থেকে ১০% কম দামে ঔষধ বিক্রি করতে হয় । কারন ব্রাহ্মণবাড়িয়া ড্রাগস এন্ড কেমিস্ট সমিতির নিয়মে আমরা ব্যবসা করি । যারা বেশি দামে ঔষধ বিক্রি করে যাচ্ছে তারা অবশ্যই অসাধু ব্যবসায়ী । ঔষধ বিক্রি করা শুধু ব্যবসা না, এটি একটি সেবাও বটে ।

আধুনিক মেডিকেল হল এর সত্ত্বাধিকারী বলু মিয়া ও মেসার্স সততা মেডিকেল হল এর সত্ত্বাধিকারী আমিন মিয়ার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা এ বিষয়ে কথা বলতে রাজী হয়নি ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন ডেলি ম্যাপকে বলেন- আগের চেয়ে এখন কিছুটা দালালের আবির্ভাব কমেছে বটে, তবে কে বা কারা এ সব ফার্মেসীতে রোগীদেরকে নিয়ে যায় তা অবশ্যই দেখবো এবং আমাদের হাসপাতালের কেউ যদি এসব প্রতারণা কাজে লিপ্ত থাকে, তার প্রমান পাইলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করবো ।