বাংলাদেশ

সরকারী লাইসেন্সবিহীন ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট না লিখতে ডাক্তারদের প্রতি সদর হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির নিষেধাজ্ঞা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার সকল চিকিৎসককে তাদের ব্যবস্থাপত্রে কোন ধরনের লাইসেন্সবিহীন এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট (খাদ্য সম্পূরক) জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে ।

আজ ৯ই জুলাই মঙ্গলবার সকাল ১০ ঘঃ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন নির্দেশনায় সদর হাসপাতালের দালাল এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটির সভাপতি- তাজ মোঃ ইয়াসিন ও সদস্য- মোঃ হেলাল উদ্দিন হাসপাতলের আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত সকল চিকিৎসককে এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য নির্দেশ প্রধান করেন ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- বিএমএ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও স্বাচিব ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি- ডাঃ আবু সাঈদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সিভিল সার্জন- ডাঃ শাহ আলম সরকার, সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ রানা নুরুল সামস । তারা সকালে বহিঃবিভাগের প্রতিটি কক্ষে কর্তব্যরত সকল চিকিৎসককে এ ধরনের লাইসেন্সবিহীন অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য নিষেধাজ্ঞা করেন । যে সকল এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ লাইসেন্স অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন আছে সেই সকল এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ এর উপর নিষেধাজ্ঞা নেই বলে তারা জানান । তাছাড়া তারা আরোও বলেন- এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগন প্রতি রবিবার ও বুধবার সরকারি নিয়ম অনুসারে দুপুর ১২.০০ ঘঃ পর ডাক্তার ভিজিট করতে পারবে, এই দুইদিন ব্যতীত ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিগন অথবা অপ্রয়োজনে কোন দর্শনার্থী হাসপাতালে চত্বরে না আসতে নিষেধ করেন ।

এই ব্যাপারে জানতে চাইলে- সদর হাসপাতালের দালাল এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটির সভাপতি- তাজ মোঃ ইয়াসিন সাংবাদিকদের বলেন- ঔষধ মানুষের জীবন বাঁচায়, তাই ঔষধ এর জন্য জেলা শহরের দূরদূরান্ত থেকে প্রায় ১-২ হাজার রোগী প্রতিদিন সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে, তাই অপ্রয়োজনীয় এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য ডাক্তারদের নির্দেশ করা হয়েছে, তবে ডাক্তার রোগীর প্রয়োজনে সরকার অনুমোদিত এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ লিখতে বাধা নেই বলে তিনি জানান ।

সদর হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক- ডাঃ শওকত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন- হাসপাতলের আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত সকল চিকিৎসককে এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য নির্দেশ করা হয়েছে, তবে ডাক্তারগণ সরকার অনুমোদিত এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ ও বিএসটিআই অনুমোদিত আইটেম লিখতে পারবে । তিনি সদর হাসপাতালের পাশাপাশি প্রাইভেট ক্লিনিক গুলোতেও লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম না লেখার জন্য নির্দেশ করেন । তিনি সাংবাদিকদের আরোও জানান হাসপাতলের আন্তঃবিভাগ, বহিঃবিভাগ ও জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত কোন চিকিৎসকই লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম প্রেসক্রাইব করেন না ।তবে কোন এলোপ্যাথিক/আয়ুর্বেদিক/ইউনানী ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি যদি ডাক্তারকে লাইসেন্সবিহীন ঔষধ অথবা ডিআরএ রেজিস্ট্রেশন ছাড়া ঔষধ ও ফুড সাপ্লিমেন্ট জাতীয় আইটেম অথবা বিএসটিআই অনুমোদনহীন আইটেম লিখতে পেসার ক্রেইট করেন তাহলে সদর হাসপাতালের দালাল এবং ফুড সাপ্লিমেন্ট কোম্পানির দৌরাত্ম নিয়ন্ত্রণে গঠিত কমিটিকে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি- র আ ম উবায়দুল মোক্তাদির চৌধুরীকে জানানো হবে এবং সেই সকল প্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রসাশনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।