বাংলাদেশ

জমকালো আয়োজনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিতাস নদীতে ঐতিহ্যবাহি নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিতাস নদীতে রবিবার (০১সেপ্টেম্বর ২০১৯) ঐতিহ্যবাহি নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার তিতাসের বুকভরা ঢেউ আর প্রাণভরা উচ্ছাসে পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি শ্মশান ঘাট থেকে মেড্ডা কালাগাজীর মাজার পর্যন্ত এলাকায় তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয় এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর, সরাইল, নাসিরনগর, বিজয়নগর এবং কিশোরগঞ্জ জেলার নিকলী উপজেলা থেকে মোট ১৩টি দল প্রতিযোগী দল তাদের সুসজ্জিত নৌকা আর রং বে-রঙের বাহারি পোশাক পড়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতা চলার সময় বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মাঝিদের ভাটিয়ালী গান আর পানিতে বৈঠার ছলাত ছলাত আওয়াজে পুরো এলাকা মুখরিত হয়।

বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পৌর এলাকার শিমরাইলকান্দি শ্বশ্মান ঘাট এলাকায় নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁন। এ সময় পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আল-মামুন সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সন্ধ্যায় মেড্ডা কালাগাজির মাজার এলাকায় পুরষ্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রনালয় সর্ম্পকিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খাঁনের সভাপতিত্বে সম্মানিত অতিথি ছিলেন, মাউশির সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ফাহিমা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফিরোজুর রহমান ওলিও, বিজয়নগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাসিমা লুৎফুর রহমান ( নাসিমা মুকাই আলী), জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আল-মামুন সরকার। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে সরাইল উপজেলার ওসমান উল্লাহর নৌকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান আঁখির নৌকা এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করে নবীনগর উপজেলার মোর্শেদুল ইসলাম লিটনের নৌকা। পরে প্রধান অতিথি প্রথম স্থান অর্জনকারী দলকে ১৩ সেফটিক ফ্রিজ ও নগদ ২০ হাজার টাকা, দ্বিতীয় স্থান অর্জনকারীকে ৪০ ইঞ্চি সনি এলইডি টিভি এবং তৃতীয় স্থান অর্জনকারীকে ২০ ইঞ্চি এলইডি টিভি উপহার হিসেবে প্রদান করেন। এছাড়াও প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহনকারী প্রত্যেক দলকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি করে ওভেন প্রদান করা হয়।

এদিকে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা উপভোগ করতে দুপুর থেকেই জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও আশপাশ এলাকা থেকে হাজার-হাজার মানুষ তিতাসের দু’পাড়ে, বিভিন্ন ভবনের ছাদের উপর ভীড় জমায়। অনেকেই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ছোট ছোট নৌকা ভাড়া করে পরিবার পরিজন নিয়ে তিতাস নদীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলার সময় শিমরাইলকান্দি শ্বশ্মান ঘাট এলাকা থেকে মেড্ডা কালাগাজীর মাজার পর্যন্ত এলাকায় ১৪০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েনের পাশাপাশি র‌্যাব, বিজিবি ও নৌ-পুলিশের কয়েকটি টীম নিয়োজিত ছিল। এছাড়াও ছিল ডুবুরীদল, ফায়ার সার্ভিস ও মেডিকেল টীম। নিরাপত্তার জন্য আকাশে উড়ানো হয় ড্রোন।