বাংলাদেশ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কলেজ শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের পর হত্যা- যুবকের বিরুদ্ধে ফাঁসিতে ঝুলানোর অভিযোগ

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার দক্ষিণ কলেজপাড়া এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থীকে পার্শবর্তী উপজেলার এক বখাটে হাত-পা বেধে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বখাটে কলেজ শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি করে আসছিল বলে তার পরিবার দাবি করেছে। 

গতকাল ১০ই সেপটেম্বর মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছয়টায় কলেজ শিক্ষার্থী শরিফাকে ধর্ষণ- শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার পর ফাঁসিতে ঝুলিয়েছে সোহেল রানা প্রকাশ্যে হোসেন । ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের লাশ ঘরে নিয়ে আসে। ঘটনার পর থেকে বখাটে ও তার পরিবারের লোকজন পালিয়ে গেছে বলে শোনা যায় । 

নিহত শরিফার পরিবার জানায়, পাঁচ বছর ধরে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামের আক্কাস আলীর বখাটে ছেলে সোহেল রানা প্রকাশ্যে হোসেন(২৮) তার কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শরিফা জান্নাতকে(২০) প্রেম নিবেদন করে আসছে। প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বখাটে সোহেল রানা প্রকাশ্যে হোসেন গত কয়েকমাস আগে দুবাই থকে এসে তার বন্ধুদেরকে নিয়ে শরিফাকে যৌন হয়রানি করে আসছে। বখাটের হাত থেকে রক্ষা পেতে ৩ বছর আগে পড়াশোনার জন্য শরিফাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজপাড়ায় পাঠিয়ে দেয় তার বাবা-মা। ব্রাহ্মণবাড়িয়া  সরকারি কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই বখাটে কলেজে আসা-যাওয়ার সময় বন্ধুদের দিয়ে বাড়িতে এসে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়- শরিফা(২০), ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন । সে নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের মজিবুর হকের তয় মেয়ে । অন্যদিকে সোহেল রানা প্রকাশ্যে হোসেন(২৮), নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট ইউনিয়নের আক্কাস আলীর ছেলে । সে দুবাই প্রবাসী ছিলেন । মাস দুয়েক আগে বিদেশ থেকে দেশে আসেন ।

পাঁচ- বছর যাবত শরিফাকে প্রেমের কুপ্রস্তাব দিয়ে যাচ্ছে কিন্তু শরিফা তার কথায় রাজি না হওয়ায় দেশে এসে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা পর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখেন বলে জানান পরিবার । ২০১৫ সালে প্রেম সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে হোসেন এর সাথে শরিফার পরিবারের ঝামেলা ছিল । এলাকায় তাকে উত্যক্ত করত তাই মেয়েকে লেখাপড়ার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজ পাড়ায় থাকার ব্যবস্থা করেন তার বাবা-মা ।

নিহত শরিফার বোন সোনিয়া বলেন- গতকাল সন্ধ্যায় হোসেন ফোন দিয়ে বলেন- তোর বোন শরিফা ফাঁসি লাগছে, তারাতারি কলেজ পাড়া যাওয়ার জন্য । এসময় সোনিয়া শুনতে পায়- চল চল শরিফা মরে গেছে পালায় । তারপর থেকে হোসেনের মোবাইল বন্ধ ছিল ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়েছি এবং আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।