বাংলাদেশ

নবজাতককে হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে মা

সন্তান জন্মের পর পৃথিবীর সব চেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল মা বাবার কোল। কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে সেই মা বাবার কোল নিরাপদ নয় এমনটাই প্রমাণ করলো অজ্ঞাত এক মহিলা । সন্তান জন্ম দেয়ার পর ভোর হতেই হাসপাতালে নবজাতক শিশুকে রেখে পালিয়েছে মা।

মা পালানোর পর অসুস্থ নবজাতককে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ । নবজাতকের সব কিছু বিবেচনা করে মঙ্গলবার নবজাতক শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশ, সদর উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর ও হাসপাতালের যৌথ সহযোগিতায় নবজাতকটি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ই অক্টোবর রাত ১১.০০ টায় কে বা কারা গর্ভবতী এক অজ্ঞাত মহিলাকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে রেখে চলে যায় তারপর হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোতাহের হোসেন সেন্টু অসুস্থ অবস্থায় নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা দিয়ে গাইনী বিভাগে হস্তান্তর করেন। উদ্ধারের পর ওই নারীর কিছুটা মানসিক সমস্যা আছে বলে মনে হয় ও প্রসব বেদনায় ছটফট করছিল। কাপড় নোংরা ছিল। হাসপাতালের ভর্তিরত অজ্ঞাত মহিলা গাইনী বিভাগে ১৪ই অক্টোবর ভোররাত ৩.০০ ঘঃ একটি ফুটফুটে ছেলে বাচ্চার জন্ম দেয় । ওইদিন ভোরেই শিশুটিকে রেখে উধাও হয়ে যান মা। 

সদর মডেল থানার এস আই নারায়ণ বলেন, নবজাতক শিশুটিকে রেখে মা উধাও হয়ে যাওয়ার পর আমরা ও হাসপাতালের সিনিয়র নার্সরা মিলে শিশুটির দেখাশুনা করি। হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন এর সার্বিক সহযোগিতায় অসুস্থ শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার শিশুটি শিশু কনসালটেন্ট ডাঃ মোঃ ইকবাল হোসেন দেখে চিকিৎসা দিচ্ছেন এবং শিশুটি এখন অনেকটা সুস্থ আছে ৷

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ শওকত হোসেন বলেন- নবজাতকের কথা শোনে আমি আজ সকালেই তার খোজখবর নেয় তারপর সদর মডেল থানা পুলিশকে ও সমাজ সেবা অফিসার মাহমুদকে জানায়৷ তারপর নবজাতকের খাবার, পোষাক ব্যবস্থা করি এবং এখন শিশুটি আমাদের হেফাজতে আছে। তিনি আরোও বলেন যদি কেউ শিশুটি নিতে ইচ্ছে পোষণ করে তাহলে সদর উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করতে হবে৷