বাংলাদেশ

চীফ ইঞ্জিনিয়ার খলিলুর রহমান সাত মাসেই এলজিইডি'তে নব-জাগরণের সৃষ্টি করলেন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জীবনের এক যুগ নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে বৃহত্তর সিলেটের পূণ্য ভুমিতে কাটিয়েছেন দেশ বিনির্মাণের এক নিবেদিত প্রাণ প্রকৌশলী জনাব মোঃ খলিলুর রহমান। প্রধান প্রকৌশলী হয়েও যেন নাড়ীর টানে সাত মাসে কয়েকবার হাওর-বাওর ব্যষ্টিত চায়ের দেশ বৃহত্তর সিলেটের অবকাঠামো নির্মাণের মান দেখতে সফর করলেন। এভাবে দেশব্যাপী অফিসের কাজের ফাঁকে চলছে তারঁ প্রাণের নেশা কাজের টানে ঝটিকা সফর। এই গর্বিত পিতার সু্যোগ্য ছেলের পোস্টে হাজারো মানুষ দেখলো, "এই কাজ পাগল মানুষটির অবসর জীবন কাটবে কিভাবে "। সত্যিই বুকের ভেতরে এক বেদনার সূর বেজে উঠলো।

'৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশ বরেণ্য প্রকৌশলী মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিক তাঁর হাতেগণা কয়েক জন দক্ষ ও নিবেদিত প্রাণ প্রকৌশলী কে সঙ্গে নিয়ে তিল তিল করে গড়ে তুলেন যুদ্ধবিধ্বস্থ দেশ বিনির্মাণের অাজকের এই সুবিশাল নির্মাণ প্রতিষ্ঠান এলজিইডি। এই ব্যাপক কর্মযজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মোঃখলিলুর রহমান মরহুম কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের সুযোগ্য, বিশস্ত ও অনুগত এবং নিবেদিত প্রাণ প্রকৌশলী জনাব খলিলুর রহমান। গত ৯মে ২০১৯ এ দায়িত্ব ভার গ্রহন করে তিনি তাঁর প্রিয় কামরুল ইসলাম সিদ্দিক স্যারের পদাঙ্ক অনুসরণ করে সাত সমুদ্র তের নদী পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু করেন।
দায়িত্ব ভার গ্রহন করার পর মাঠ পর্যায়ের অহেতুক বদলী অাতঙ্কের নীরব বার্তা পৌঁছে যায় এবং কাজের গতিতে প্রাণ ফিরে পায়।
তবে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বদলীর আতঙ্ক দূর করা হলেও রাজধানী কিংবা মফস্বল যেখানে অনিয়ম, সেখানেই শাস্তি নিশ্চিতে হার্ডলাইন নিয়েছেন।
কাজের গতিতে ছন্দপতন ঠেকানোর জন্য সাত মাসে বিদেশ সফর হয় নাই। সর্ব ক্ষেত্রে সময়ের কাজ সময়ে করার মেসেজ পৌঁছে যায়। কাজের মানে অাপোষ নেই হোক সে বড় কিংবা ছোট। অধিদপ্তরের নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহন করেন। অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে কাজ বাস্তবায়ন ও কাজের মান নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যাপক ভাবে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ ছলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য হচ্ছে- সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে নদীর নাব্যতা হ্রাসে বড় আকারের স্প্যান বিশিষ্ট সেতু নির্মাণে নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই লক্ষ্যে প্রধান প্রকৌশলী বিদেশে কর্মরত বন্ধু বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলীদের সঙ্গে কথা বলে ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
গ্রামীণ জনপদের উন্নয়নের সাথে সাথে যানবাহন চলাচলের পরিমান অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই তিনি রাস্তার শক্তি বৃদ্ধি করনের লক্ষ্যে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ দিয়ে ‘Standard Road Design ম্যানুয়াল’ তৈরি করে মাঠ পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। এর ফলে অবহেলিত এ সড়কসমূহও টেকসই হবে।

গ্রামের অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বিটুমিনের বিকল্প হিসেবে ইউনিব্লক ব্যবহারে খরচ সাশ্রয়ের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন।
জানা যায় তিনি যখন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ডিজাইন) তখন থেকেই যেখানেই সমস্যা মানেই তাঁর ছুটে চলা, তা দেশের যেকোন প্রান্তেই হোক। মাঠ পর্যায়ে উপজেলা/নির্বাহী প্রকৌশলী দায়িত্ব পালন কালে কনকনে শীতের সকালের ঘনো কুয়াশা ভেদ করে কিনবা রোদ, বৃষ্টি, ঝড় মাথায় নিয়ে কাজের মান ঠিকঠাক বুঝে নেয়ার জন্য নিরন্তর ছুটে চলতেন।
জনাব খলিলুর রহমান উন্নয়নের বিশেষ ধরনের পরিকল্পনা অাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম এমপি ও সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ’র আন্তরিক সহযোগীতায় এলজিইডিকে গর্বিত অংশীদার হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মনোযোগ দেন উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্ত ও শক্তিশালীকরণের কাজে।

যে সব সড়কে বাস চলে অথবা ট্রাফিকের পরিমাণ বেশি এমন জনবহুল সড়ককে ‘ডাবল লেনে’ উন্নীত করার জোর উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ইউনিয়নের আগে উপজেলার সড়কসমূহকে টার্গেট করা হয়েছে। নতুন নতুন প্রকল্পের আওতায় এসব কর্মযজ্ঞের বাস্তবায়ন চলছে।
যে কোন প্রান্তে সমস্যা দেখার জন্য ‘অফিস ডে’র বাইরে বেছে নিয়েছেন সাপ্তাহিক ছুটির দিনকে। তবুও বিদায়ের হাতছানি! সরকারি নিয়মে চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার সময়ক্ষণ ঘনিয়ে এসেছে। সেই হিসেবে আর মাত্র ১৫ দিন বাকী।

সরকারি চাকরির বয়স শেষ হওয়ার মাত্র ৮ মাস আগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দিয়ে কর্তব্যপরায়ণতায় রীতিমতো এক উদাহরণ তৈরি করেছেন মো: খলিলুর রহমান। প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নতুন করে তিনি কি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাবেন না কি এ পদটিতে কোন নতুন মুখ আসবে এ নিয়েও চলছে তুমুল জল্পনা-কল্পনা। দৌড়ঝাঁপও শুরু করেছেন সম্ভাব্য ক্যান্ডিডেটরা।

প্রধান প্রকৌশলী জনাব খলিলুর রহমানের ঈর্ষান্বিত সফলতায় দিশেহারা হয়ে ভাবনা-চিন্তার প্রথম পথটি বন্ধ করতে ইতোমধ্যেই ‘কুটকৌশল’ থিউরি বাস্তবায়নে সক্রিয় তৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভাষ্যমতে, এলজিইডি’র বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী ও তার পরিবারকে জড়িয়ে নানামুখী অপপ্রচারের মাধ্যমে হীন স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অাদা জল খেয়ে নেমেছে একটি কুচক্রী মহল।

অথচ খলিলুর রহমান নিয়ম মেনে অবসরে গেলে পদপ্রত্যাশী আরও চার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর সরকারি চাকরির আয়ু মাত্র ১৩৪ দিনের মধ্যেই শেষ হওয়ার তথ্যে ঘন ঘন পদোন্নতির অস্থিরতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে অধিদপ্তরটিতে। খবর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের।

সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান প্রকল্পের টাকায় এক শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তাদের ঘন ঘন বিদেশ সফরের হিড়িকের নেতিবাচক সমালোচনার সময়েও নিজেকে বিতর্কমুক্ত রেখেছেন এলজিইডি’র এ প্রধান প্রকৌশলী।
গত ৭ মাসের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে হাল সময়কার এ‘ট্র্যাডিশন’ থেকে নিজেকে দূরে রেখেছেন। তাঁর সময়ে নিয়োগ-বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগের কথা শোনা যায়নি। উন্নয়ন কাজ থেকে শুরু করে, বদলী, পদোন্নতি ও পোস্টিং’র ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্প্রতি এক সঙ্গে ৪২ জন জ্যেষ্ঠ সিনিয়র প্রকৌশলীকে নির্বাহী প্রকৌশলী ও ১০২ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে সহকারী উপজেলা প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি প্রদানেও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন। বঞ্চনার বৃত্ত থেকে মুক্ত জ্যেষ্ঠ উপজেলা প্রকৌশলী ও উপ-সহকারী প্রকৌশলীরাও স্বস্তি’র শ্বাস ছেড়েছেন এবং ইহা এই প্রতিষ্ঠানের একটি বিরল ঘটনা হিসেবে অালোচনায় এসেছে।
মাঠ পর্যায়ে কারিগরী শূন্য পদে প্রায় ২৮০ জন সহকারী ও ৩০০ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রায় চুড়ান্ত। সর্বক্ষেত্রে এ ধরনের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার কারনে বিশেষ করে শূন্য পদের লোক নিয়োগ হলে কাজের গতি অতি মাতায় বেড়ে যাবে।

গ্রামের কাঁচা সড়ক পাকা করতে গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নতুন কৌশল নিয়েছেন এ অভিজ্ঞ প্রকৌশলী। অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্ব না থাকলেও পাকা সড়কে মানুষের হাঁটার ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সাশ্রয়ী নীতি গ্রহণ করেছেন। বিটুমিন এড়িয়ে ইউনিব্লকে এখন অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক পাকা করা হচ্ছে।

একই সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের টাকার ঘাটতি না থাকায় কাজ শেষ করে সময়মতো বিল তুলতে পারছেন ঠিকাদাররা। দিনের কাজ দিনে শেষ করার নিয়মে কঠোর হয়েছে হাইকমান্ড। প্রতিটি প্রকল্প কাজের অগ্রগতি প্রতি সপ্তাহে পর্যবেক্ষণ ও মাসে লিখিত আবেদনের কয়েক যুগ আগের পুরনো নিয়মেই ফিরে গেছে এলজিইডি।
সূত্র মতে, এলজিইডিতে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে শুন্য সহিষ্ণুতা নীতি গ্রহণ করেছে প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর। সম্প্রতি একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সয়েল টেস্টে নয়ছয়ের মাধ্যমে বিল উত্তোলনের অপকৌশল গ্রহণ করেন।

তাদের রিটেস্টের মাধ্যমে স্বচ্ছতা প্রমাণ করে বিল উত্তোলনে নির্দেশ দিলে ক্ষোভে এই প্রতিষ্ঠানটি প্রধান প্রকৌশলী জনাব খলিলুর রহমানের তিল-তিল করে গড়ে তোলা গৌরব-উজ্জলময় জীবনের অর্জিত সফলতায় কালো দাগ লাগানোর অপতৎপরতা শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেছেন এলজিইডি’র বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তারা বলছেন, প্রধান প্রকৌশলী নিজের চাকরি জীবনে কখনই কাজের মান নিয়ে কোন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেই আপোষ করেননি। এই মেধাবী প্রকৌশলীর সততা ও কর্মদক্ষতার যোগ্যতার মূল্যায়নে তাঁকে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সরকার বেছে নিয়েছিলেন। রাইট ট্র্যাকে তাঁর সঙ্গে পেরে না উঠেই পেছনের দরজা দিয়ে তাঁকে ঘৃণ্য কায়দায় আঘাত করার অপচেষ্টা চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, প্রধান প্রকৌশলীর সরকারি চাকরির মেয়াদের শেষভাগে এ পদে আসতে চান চারজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী। কিন্তু তাদের চাকরির বয়সসীমাও মাত্র ১৩৪ দিনের ব্যবধানে শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী নির্ধারিত সময়ে নিয়োগ পেলে মেয়াদ পাবেন মাত্র ১৮ দিন।

জ্যেষ্ঠতা অনুসারে পরবর্তী আরও তিন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এ পদে পদোন্নতিতে গুরু দায়িত্ব পেলে থাকতে পারবেন ১ দিন, ৬৩ দিন ও ৫২ দিন। ফলে অভিজ্ঞতা ও কর্মকান্ড বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সরকার বর্তমান প্রধান প্রকৌশলীতেই আস্থা রাখলে কুটকৌশলী চক্রটির মিশন আবারও ভেস্তে যেতে পারে। এমন শঙ্কায় এলজিইডি'তে অস্থিরতা সৃষ্টির টার্গেটে থাকা সুযোগ সন্ধানী মহলটির সঙ্গে কারা মিলেমিশে একাকার হয়েছেন সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। মাত্র ৭ মাসের ব্যবধানে সর্বত্রই অালোচনা কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের গড়া সেরা'টাই খলিলুর রহমান।