বাংলাদেশ

সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের "কোটিপতি পিয়ন" ইয়াছিন গ্রেফতার- ৬ কোটি টাকা আত্মসাত

ডেস্ক রিপোর্ট- 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ‘কোটিপতি পিয়ন’ ইয়াছিন মিয়াকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে সদর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার (৬ ডিসম্বের) ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা ভবনের সামনে থেকে তাকে আটক করা হয়। অভিযোগে বিভিন্ন মাধ্যমে পাওয়া টাকা ব্যাংকে জমার বদলে ভুয়া সিল-স্বাক্ষর দিয়ে পাঁচ কোটি ৭৭ লাখ টাকা টাকা আত্মসাতের কথা উল্লেখ করা হয়।

আটক ইয়াছিন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আতুয়াকান্দি এলাকার মোহন মিয়ার ছেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুর রহমান বলেন, ইয়াছিনকে শুক্রবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটি তদন্ত করার এখতিয়ার দুদকের। আমরা অভিযোগটি দুদকের কুমিল্লা কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছি।

সম্প্রতি সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অডিট হওয়ার পর কোটি টাকার ঘাপনার বিষয় নজরে আসে সবার। এরপর গা ঢাকা দেন ইয়াছিন মিয়া। তারপর থেকে তার খোঁজ মিলছিল না । এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করা হয় বলে জানা যায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৬ সালে ইয়াছিন সদর উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে পিয়ন পদে চাকরি পান। এরপর নানা সময়ে তাকে আশুগঞ্জ ও নাসিরনগর উপজেলায় বদলি করা হলেও ঘুরে ফিরে তিনি সদর উপজেলায়ই চাকরি করেন। প্রায় সময়ই অফিসের নকল, তল্লাশি ও রেজিস্ট্রেশন ফিসহ চালানের টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা দিতে পাঠানো হতো তাকে। কিছুদিন আগে অফিসিয়াল অডিটে তার বিরুদ্ধে ‘কোটি টাকার ঘাপলা’ প্রকাশ পায়। এরপর থেকেই গা ঢাকা দেন ইয়াছিন মিয়া।

অভিযোগ ওঠেছে, ব্যাংকের ভুয়া চালান তৈরি করে তিনি ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন। ইয়াছিনের তিনটি ফ্ল্যাট-বাড়িসহ নামে বেনামে রয়েছে আরও অনেক সম্পত্তি। বিয়েও করেছেন তিনটি। সংসার করেন সব স্ত্রীর সঙ্গেই। পিয়ন হয়ে কীভাবে এত সম্পদের মালিক হলেন তা নিয়ে এখন সবার মনে প্রশ্ন।