বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক পাঠকের হাতে মোস্তফা কামালের উপন্যাস

মোস্তফা কামাল বাংলাদেশের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিকদের অন্যতম। আড়াই দশকের বেশি সময় ধরে লেখালেখি করছেন। তার উপন্যাসের সংখ্যা প্রায় একশ’। সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময় পার করেছেন। এখনও সাংবাদিকতার পেশায়ই নিয়োজিত আছেন। পেশার সঙ্গে তাল মিলিয়ে লেখালেখিও চালিয়ে যাচ্ছেন। ‘সময়ের প্রতিধ্বনি’ এবং ‘রঙ্গ ব্যঙ্গ’ নামে দু’টো কলাম লিখে চলেছেন এখনও। সাংবাদিকতার পেশায় কাজ করতে গিয়ে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন। ভুটান, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, জাপান, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন। ‘জননী’, ‘পারমিতাকে শুধু বাঁচাতে চেয়েছি’, ‘জিনাত সুন্দরী ও মন্ত্রী কাহিনী’ ‘হ্যালো কর্নেল’, ‘অগ্নিকন্যা’, ‘অগ্নিপুরুষ’ তার জনপ্রিয় উপন্যাস।

মোস্তফা কামালের তিনটি উপন্যাস ‘থ্রি নভেল’ নামে এক মলাটে প্রকাশ করেছে নোশনপ্রেস। নোশনপ্রেস মূলত ভারত সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা। এ প্রতিষ্ঠানটি আমাজনসহ আরো প্রায় দশটি বই-বিপণনী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মোস্তফা কামালের এই পুস্তকটি পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে।

এই সময়ের মানুষদের কাছে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে। জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো প্রকাশনা জগতও পৃথিবীর নানা প্রান্তে খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করছে। বিশ্বসাহিত্যের আনাচে আনাচে যে সব রত্ন অনাবিষ্কৃত রয়ে গেছে সেগুলো খুঁজে বের করে আলোর সামনে নিয়ে আসার ব্যাপারে প্রকাশনা সংস্থাগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি তৎপর হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতার একটি প্রমাণ মোস্তফা কামালের উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদ।

তার উপন্যাসের ইংরেজি অনুবাদের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমাদের সাহিত্যের পরিচিতি বিশ্বপাঠকের কাছে তুলে ধরতে অনুবাদের বিকল্প আর কিছু নেই। আজকের পাঠকের কাছে সারা বিশ্বের সাহিত্যের চাহিদা তৈরি হয়েছে। আমাদের সাহিত্য অন্যান্য এলাকার সাহিত্যের তুলনায় কোনো দিক থেকে নিম্নমানের নয়। বরং যে সব সাহিত্য বড় বড় পুরস্কার পাচ্ছে সেগুলোর সঙ্গে আমাদের সাহিত্য তুলননীয় হতেই পারে। বিশ্বপাঠকের চাহিদার প্রতি নজর দিয়ে প্রকাশকরাও ইদানিং সচেতন হয়ে উঠেছেন। সুতরাং সবার কাছে আমাদের সাহিত্যের পরিচিতি বাড়ানোর জন্য আমরাও তাদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার চেষ্টা করব।’মোস্তফা কামালের ফাইল ফটোমোস্তফা কামালের তিনটি উপন্যাসের মধ্যে প্রথমটির নাম ‘তালিবান পাক কান্ল অ্যান্ড আ ইয়াং লেডি’। আফগানিস্তানে তালেবানদের উত্থান এবং তাদের উত্থানে পাকিস্তানসহ আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের জীবনে ভয়াবহ পরিস্থিতির কথা স্থান পেয়েছে এ উপন্যাসটিতে। বাংলাদেশের ছেলে সাকিব পাকিস্তানে গিয়ে তালেবানদের হাতে আটক হয়ে যে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেটাই মূলত তৈরি করেছে এ উপন্যাসের আখ্যান। উপন্যাসের শুরুতে বোঝা যায়, সাকিবের সঙ্গে পাকিস্তানী মেয়ে মাহাভেসের গভীর প্রেম আছে। সামাজিক এবং রাজনৈতিক কারণে বিয়ে হতে বিলম্ব হচ্ছে। শুরুতে নিছক প্রেমকাহিনী ভাবলে দোষের কিছু নেই। উপন্যাস কিছুটা এগিয়ে যাওয়ার পরে দেখা যায় ভয়াবহ অবস্থার চিত্র। তালেবানদের হাতে ধরা পড়া সাকিবের সঙ্গে পাঠকেরও দমবন্ধ অবস্থা তৈরি হতে পারে। অবশ্য শেষ পর্যন্ত সাকিব মুক্ত হতে সক্ষম হয়। বাইরের জগতের আলো দেখতে পায় সে। প্রথম পুরুষে বর্ণিত উপন্যাসের শেষের দিকে মুক্তিলাভের পরে প্রেমিকাকে দেখে সাকিবের মনে হয়: