মতামত

সেই মেয়েটিকে ধর্ষণ না করায় পুলিশকে ধন্যবাদ : তসলিমা নাসরিন

রাজধানীর রাস্তায় তল্লাশির নামে তরুণীকে হেনস্তার ভিডিও ভাইরালের ঘটনায় এবার পুলিশের আচরণ নিয়ে মন্তব্য করলেন নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন। তিনি বলেন,  ‘আমি বরং ধন্যবাদ দিই পুলিশকে যে তারা ল্যাং মেরে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোথাও ধর্ষণ করে মেরে ফেলে রাখেনি। পারতো তো।’

বৃহস্পতিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১টার দিকে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে এই কথা বলেন তসলিমা নাসরিন।

গত ২২ অক্টোবর দিবাগত রাত ২টার দিকে রামপুরা এলাকায় অটোরিকশা থামিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন পুলিশের একাধিক সদস্য। এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। এই ঘটনায় ৫ পুলিশসদ্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। 

এ ঘটনায় উপস্থিত পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টের (পিএমও) দুই পুলিশ সদস্যকে শনাক্ত করে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো...

‘ঢাকা শহরে রাত আড়াইটায় এক মেয়ে অটোয় করে কোথাও যাচ্ছিল, পুলিশ অটোটিকে থামিয়ে মেয়েটির সঙ্গে কথা বলেছে, ওই কথাগুলো নিশ্চিতই চূড়ান্ত অপমানজনক। কথোপকথনের ভিডিওটি পুলিশই ফেসবুকে পোস্ট করেছে। ওটি দেখে মানুষ তেলে বেগুনে জ্বলে উঠেছে। পুলিশের আচরণ দেখে ভীষণ ক্ষুব্ধ সবাই।
আমার কাছে কিন্তু পুলিশের আচরণ মোটেও অস্বাভাবিক বলে মনে হয়নি। পুলিশ যে সব প্রশ্ন করেছে, মেয়েটিকে একই প্রশ্ন তার বাবা মা আত্মীয় স্বজন, পড়শি, কলিগ, বন্ধু-বান্ধবী, চেনা অচেনা সবাই করতো। পুলিশ এই সমাজেরই মানুষ। সমাজে মেয়েদের মানুষ যে চোখে দেখে, পুলিশও সেই চোখে দেখে। সমাজের পুরুষেরা মেয়েদের যৌন হেনস্থা করে, পুলিশও করে।
সমাজের পুরুষেরা মেয়েদের ধর্ষণ করে, খুন করে, পুলিশও করে। আর সব লোক যে প্রশ্ন করতো, সে রাতে পুলিশ সেই প্রশ্নই করেছে, এত রাতে কেন বাড়ির বাইরে! কোত্থেকে ফিরছে মেয়ে,হোটেল থেকে নাকি! মেয়েটা নিশ্চয়ই খারাপ মেয়ে! আমি বরং ধন্যবাদ দিই পুলিশকে যে তারা ল্যাং মেরে মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গিয়ে কোথাও ধর্ষণ করে যে মেরে ফেলে রাখেনি। পারতো তো।

পুলিশ কেনো মেয়েদের ভক্ষক না হয়ে রক্ষক হবে! তাদের কি ট্রেনিং-এর সময় শেখানো হয় মেয়েদের অধিকারকে পুরুষের অধিকারের সমান বলে বিবেচনা করতে? তাদের কি শেখানো হয় মেয়েদের একই সম্মান দিতে, যে সম্মান তারা পুরুষকে দেয়? শেখানো হয় নিরপরাধ নারী পুরুষকে হেনস্থা করার নয়, নিরাপত্তা দেওয়ার ভার পুলিশের! শেখানো হয় না। শেখানো হয় না বলে সমাজের আর সব পুরুষ যেমন নারীকে যৌন বস্তু বলে মনে করে, পুলিশও মনে করে।