রাজনীতি

খেলাফত মজলিসের আমির হাবিবুর রহমানের ইন্তেকাল

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান (৬৯) ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সিলেট নগরীর নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী, চার ছেলে ও তিন কন্যাসন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

সিলেটের জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ বলেন, শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে মাওলানা হাবিবুর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। প্রিন্সিপাল অফিসের কাছে নিজের তৈরি বাগানের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

মাওলানা শাহ মমশাদ আহমদ জানান, হাবিবুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও হাইপ্রেসারসহ শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। গত ৭ অক্টোবর তিনি চিকিৎসার জন্য ভারত গিয়েছিলেন। সেখানে চিকিৎসা শেষে অনেকটা সুস্থ হয়ে তিনি গত মঙ্গলবার দেশে ফেরেন। বুধবার ও বৃহস্পতিবার তিনি মাদ্রাসায়ও যান। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ তিনি মারা যান। 

১৯৭৪ সালের জুনে দেশের শীর্ষ আলেমদের তত্ত্বাবধানে সিলেটের কাজিরবাজার এলাকায় সুরমা নদীর তীরে প্রতিষ্ঠা করেন ঐতিহ্যবাহী জামেয়া মাদানিয়া ইসলামিয়া কাজিরবাজার মাদ্রাসা। দারুল উলুম দেওবন্দের নীতিতে পরিচালিত এই মাদ্রাসা শুরু থেকেই সিলেবাসে বাংলা, ইংরেজিসহ জাগতিক বিষয় যুক্ত করে নতুন ধারার সূচনা করেন। অবিভক্ত জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের রাজনীতি থেকে পর্যায়ক্রমে বাংলাদেশ খেলাফত মসজিলের আমির নির্বাচিত হন প্রিন্সিপাল হাবিবুর রহমান। ২০১২ সালে ইসলামি ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশে খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক মৃত্যুবরণ বরণ করার পর দলের কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তে দলের আমির নিযুক্ত হন মাওলানা হাবিবুর রহমান।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ সালে দেশের নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দিয়ে সারা দেশে আলোচিত হন প্রিন্সিপাল মাওলানা হাবিবুর রহমান। তার সংগঠন সাহাবা সৈনিক পরিষদের ব্যানারে সিলেটে অসংখ্য সভা-সমাবেশ করেন। তীব্র আন্দোলনের মুখে দেশ ছেড়ে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন তসলিমা নাসরিন। এ ছাড়া দেশের নাস্তিক-মুরতাদবিরোধী আন্দোলনের কারণেও তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি পান।