রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কোন গ্রুপিং নেই- রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন

সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গিকার নিয়ে গত সোমবার বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে বিশাল ছাত্র সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় বঙ্গবন্ধু স্কয়ারে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা আল মামুন সরকার।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রবিউল হোসেন রুবেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ছাত্র সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আল নাহিদ খাঁন জয়, সাহিদ খাঁন, ঢাকা উওর মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আশিক প্রমুখ। উপস্থিত ছিলেন জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুজন দত্ত জেলা ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা।

ছাত্র সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল-মামুন সরকার বলেন, বঙ্গবন্ধুর সৈনিকদের সব সময় শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে বিশ্বে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন। ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে তা কখনো সম্ভব হবে না।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, বঙ্গবন্ধুর বয়স যখন ২৮ বছর তখন তিনি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশের অসহায় মানুষদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য, পাকিস্তানিদের কাছ থেকে দেশকে স্বাধীন করার জন্য। কিছুদিন পর আমরা বঙ্গবন্ধুর শতবছর উদযাপন করব।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে এমন কিছু কাজ করতে হবে, এমন আদর্শ ধারণ করতে হবে যেন বঙ্গবন্ধুর শতবছরে বঙ্গবন্ধুর আত্মা শান্তি পায়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ তারা দেশ স্বাধীন করতে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। আমরা এদিক দিয়ে হতভাগা, আমরা বঙ্গবন্ধুর স্পর্শ পাইনি।

আরেক দিক দিয়ে সৌভাগ্যবান আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্পর্শ পেয়েছি। পরবর্তী যে প্রজন্ম ছাত্রলীগে আসবে হয়তোবা তারা জননেত্রী শেখ হাসিনার স্পর্শ পাবেন না। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা বিনির্মানে স্বপ্ন দেখেছিলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সেই সোনার বাংলা বিনির্মানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। আমরা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে কথা দিতে চাই, আপনার জীবিত অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।

তিনি আরো বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ছাত্রলীগের কোন গ্রুপিং নেই, এটাই শেখ হাসিনার ছাত্রলীগ, এটাই বঙ্গবন্ধুর ছাত্রলীগ। গত দুইদিন আগস্ট মাস শেষ হয়েছে, আমি দুইদিন পরে এখানে এসেছি। আগস্টের শোককে আমাদের শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলা তৈরি করতে চেয়েছিলেন, সে সোনার বাংলা বিনির্মানে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কাজ করতে হবে।

ছাত্র সমাবেশে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা এসে যোগ দেন। কানায় কানায় পূর্ন হয়ে যায় বঙ্গবন্ধু স্কয়ার।