রাজনীতি

আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষোভ প্রকাশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় গতকাল শনিবার সকালে হওয়া এক সমাবেশে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় নিজেদের পছন্দ করা স্থানে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি, মাইনুল ইসলাম নামে এক প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাকে কটাক্ষ করার প্রতিবাদ, নিরাপত্তার অজুহাতে খড়মপুর এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম খাদেম কানুর বাড়ির সামনে মাজার কর্তৃপক্ষের সীমানা প্রাচীর দেয়ার নিন্দা জানানো হয়। 
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড আখাউড়া শাখার ব্যানারে উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনের স্মৃতি সৌধে এ সমাবেশ, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁদের সন্তানরা অংশ নেন।
যদিও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর প্রশাসক ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার রেইনা জানিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধাদের ওই কর্মসূচি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন।
মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ইউনুছ মিয়ার সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম খাদেম কানু, জমসেদ শাহ, ফজলুর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান মো. আবুল বাশার, শাখাওয়াত হোসেন খান, মো. মাজহারুল ইসলাম, দীপংকর ঘোষ নয়ন প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধারা জানান, জায়গা-সংক্রান্ত জটিলতায় আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ হচ্ছে না। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ি সংশ্লিষ্টরা পূর্ব নির্ধারিতস্থানে কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ না নিয়ে যেখানে করতে যাচ্ছেন সেই জায়গা নিয়ে মামলা রয়েছে। পৌর এলাকার মসজিদ পাড়ার প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মো. মাইনুল ইসলাম ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ বলে কটাক্ষ করা হয়েছে। পৈত্রিক সম্পত্তির জেরে ছোট ভাই ফখরুল ইসলাম সংবাদ সম্মেলন করে মাইনুল ইসলামকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে কটাক্ষ করেন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এ কথা প্রত্যাহার না করা হলে মানহানি মামলারও হুমকি দেয়া হয়।
প্রয়াত মাইনুল ইসলামের ছেলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চাচার অনৈতিক দাবির পক্ষে আখাউড়া পৌরসভা মেয়র আমাদের ডুপ্লেক্স বাড়িটি ভাঙ্গার নোটিশ দিয়েছেন।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি যদি নকশার বহির্ভূত নির্মাণ হয়ে থাকে তাহলে আমার জায়গাতেই হয়েছে। এছাড়া আখাউড়াতে এমন অনেক বাড়ি রয়েছে যেগুলো পৌরসভার আইন কিংবা নকশা মানেনি। সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে আমাদেরকে নোটিশ পাঠানো উদ্দেশ্যমূলক।’
আখাউড়া পৌরসভার মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘অনুমোদকৃত নকশা বহির্ভূত অংশ ভাঙ্গার নোটিশ দেয়া হয়েছে। এতে যদি আমি কোনো অন্যায় করে থাকি তাহলে আমার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিবেন। অভিযোগকারি চাইলে আইনের আশ্রয়ও নিতে না পারেন। সেটা না করে তিনি মিথ্যা রটাচ্ছেন।’
আখাউড়ার ইউএনও তাহমিনা আক্তার রেইনা বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের জায়গা নির্ধারণ করে একটি প্রশাসনিক আদেশ এসেছে। সে অনুযায়ি কাজ করা হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধারা আমার সঙ্গে কথা বললে মিলনায়তনে সমাবেশের জায়গা করে দিতে পারতাম। অন্যান্য বিষয় নিয়েও ওনারা আমার সঙ্গে কথা বলতে পারতেন। কিন্তু কেন সেটা না করে তাঁরা সমাবেশ করলেন তা বুঝতে পারছি না। তাঁদের সঙ্গে আমি কথা বলবো।’