রাজনীতি

খালেদা জিয়া কি নির্বাচন করতে পারবেন?

দুর্নীতির দু’টি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। দলটির একাধিক র্শীষ নেতা ও আইনজীবীদের একাংশের দাবি, তিনি আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। যার উপর ভিত্তি করে ইতোমধ্যে খালেদা জিয়ার পক্ষে তিনটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়াকে প্রথমে ৫ বছর বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত। তারপর থেকেই তিনি কারাগারে আছেন। একই মামলায় পরে রাষ্ট্রপক্ষের আপিলে হাইকোর্ট সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন। সবশেষ জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিশেষ আদালত খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। প্রশ্ন হচ্ছে, তিনি কি নির্বাচন করতে পারবেন? সংবিধান ও আইনজীবীরা এব্যাপারে কী বলছেন?

সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে কারা জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন না, তা বলা আছে। সেখানে নানা ধরণের অযোগ্যতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঐ অনুচ্ছেদের ২ নম্বর ধারার ‘ঘ’ উপধারায় বলা আছে, ‘‘কোনো ব্যক্তি সংসদের সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং সংসদ-সদস্য থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি... তিনি নৈতিক স্থলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যূন দুই বৎসরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বৎসরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে।’’
 
তবে সংবিধানে কোথাও স্পষ্ট করে বলা নেই যে, মামলায় শাস্তির রায় কোন পর্যায় থেকে বিবেচনা করা হবে। বিচারিক আদালত না সর্বশেষ আপিল আদালতের চূড়ান্ত রায়?

খালেদা জিয়ার দু’টি মামলাই সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ, তারপর আপিল বিভাগ এবং তারপর ঐ বিভাগেই রিভিউয়ের সুযোগ আছে। মামলা দু’টি এখন আপিল পর্যায়ে আছে। তবে পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি না পাওয়ায় খালেদা জিয়ার পক্ষে এখনও আপিল করা সম্ভব হয়নি।

অনেকের মতে, নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ের মধ্যে রায়ের কপি পাওয়া এবং আপিলের সুযোগ কম। তবে একইসাথে আশার আলোও দেখতে পাচ্ছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, এ ধরনের ইস্যুতে আপিল বিভাগের আগের রায় আছে, সেই রায়ের আলোকে নির্বাচন কমিশনই তাদের নেত্রীকে নির্বাচনে যোগ্য ঘোষণা করতে পারে।

এ প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আইনজীবীদের দুই রকম ভাষ্যই আছে। যেমন একপক্ষ বলছেন যে, এটা পারবেন না। আরেক পক্ষ বলছেন, পারবেন। আমরা মনে করছি, এটা বাধা হবে না। তিনি নির্বাচন করতে পারবেন। আমরা এই মুহূর্তে মনে করছি, সেখানে কোন বাধা নেই।

বিএনপি নেতাদের মতে, রায়ের সার্টিফাইড কপি না পাওয়া পর্যন্ত তারা যদি আপিল করতে না পারেন, সেই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনও বলতে পারে যে, তারা রায়ের কপি পায়নি। ফলে কমিশন প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ বলেন, আমরা মনে করি, এটা একটা ব্যাখ্যার বিষয়। কোন সাজাপ্রাপ্ত আসামীর মামলা যদি আপিল বিভাগে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকে, তাহলে তিনি নির্বাচন করতে পারেন। এর সুযোগ নিয়ে বর্তমান সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী বা এমপি আছেন।

এ প্রসঙ্গে মওদুদ আহমেদ আওয়ামী লীগের নেতা মহিউদ্দিন খান আলমগীরের উদাহরণ টেনে আনেন। সাজা হওয়ার পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে মহিউদ্দিন খান আলমগীর সংসদ সদস্য হয়েছিলেন এবং তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও হয়েছিলেন।

অন্যদিকে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বলা আছে, কোনো ব্যক্তি কোনো আদালতে দুই বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তিনি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য হবেন। তবে আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কেউ উচ্চ আদালতে আপিল করলে সেই ব্যক্তি নির্বাচন করতে পারবেন কিনা, সে বিষয়ে আইনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি।

গণপ্রতিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বৈধ না অবৈধ, সে বিষযে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রিটার্নিং কর্মকর্তার। তিনি কারো মনোনয়নপত্র অবৈধ বলে বাতিল করলে তার বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি আপিল করতে পারবেন। কমিশন সেই আবেদন বাতিল করলে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন কমিশন তা অনুসরণ করবে।